বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

|

কার্তিক ১৯ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জে ফের শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১:৫৭, ৪ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১১:৫৯, ৪ নভেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে ফের শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের আন্দোলনে আবারও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। 

এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল।১১ টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল থেকেই কাঠেরপুল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকেরা আবারও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ আগে থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শ্রমিকরা যাতে সড়কে নেমে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে জন্য কোথাও তাদের জড়ো হতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার (২ নভেম্বর) পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে ফতুল্লার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলন শুরু করেন। শিবু মার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করা হলে প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। ওই দিন সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো শ্রমিকেরা সড়কে নামলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুপুরে শিবু মার্কেট এলাকায় জড়ো হওয়া শ্রমিকেরা পরে জালকুড়ি এলাকায় গেলে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও টিয়ারশেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং এ ঘটনায় ছয় শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।