ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন ঘিরে বহিরাগতদের উপস্থিতি ও উসকানির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) পিকআপে করে লাঠিসোঁটা হাতে একদল যুবককে আন্দোলনস্থলের দিকে যেতে দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে। পরদিন মঙ্গলবার পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের সময় মাইকে হুমকি, ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের জড়ো করা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দুই দিনের এসব ঘটনায় শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে কারা সক্রিয় ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত সোমবার ফতুল্লার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করলে প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
আন্দোলনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পিকআপে লাঠিসোঁটা হাতে কয়েকজন যুবককে নেওয়া হচ্ছে। ভিডিও ধারণকারী এক যুবকের গলায় ইউরোটেক্স নিটওয়্যার নামের একটি পোশাক কারখানার পরিচয়পত্র ঝুলতে দেখা যায়। কারখানাটি ফতুল্লার কুতুবপুর এলাকায় অবস্থিত। তবে পিকআপে থাকা অন্য ব্যক্তিরা ওই কারখানার শ্রমিক কি না কিংবা তাদের কেন আন্দোলনস্থলে নেওয়া হচ্ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এর একদিন পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) একই দাবিতে আবারও সড়কে নামেন পোশাক শ্রমিকেরা। দুপুর আড়াইটার দিকে শিবু মার্কেট এলাকায় জড়ো হওয়ার পর তাদের বিক্ষোভ জালকুড়ি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের জালকুড়ি এলাকায় পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পুলিশ ও বিজিবি শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে দফায় দফায় টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় মাইকে ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের জড়ো করা, হুমকি ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ছয় শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে লিংক রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ। সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের শিল্প পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা সড়ক অবরোধ ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে, তারা সাধারণ শ্রমিক নয়। শ্রমিকের ছদ্মবেশে একটি মহল অশান্ত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।

