বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

|

আশ্বিন ১৪ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

রিয়াদ চৌধুরীর উদ্দেগ্যে শতবর্ষের ফতুল্লা বাজারে উন্নতির ছোঁয়া

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ০০:০৩, ১ অক্টোবর ২০২৬

রিয়াদ চৌধুরীর উদ্দেগ্যে শতবর্ষের ফতুল্লা বাজারে উন্নতির ছোঁয়া

ফাইল ছবি

শতবর্ষের ঐতিহ্য বহন করে আসছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বাজার। দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা ও অব্যবস্থাপনার কারণে বাজারটির ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৭ বছরের শাসনামলে বাজারটির মৌলিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ব্যবসায়ীদের দাবি, ওই সময়ে বাজারের ভেতরে নিজেদের সুবিধা ও স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনাহীনভাবে একটি সেড বা ভবন নির্মাণ করা হলেও তা বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশিত কোনো সুবিধা দিতে পারেনি। বরং এর কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারের বিভিন্ন অংশ হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যেত। অনেক সময় দোকানঘরেও পানি ঢুকে পড়ত। এতে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের অনেকে বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যান।

ফতুল্লা বাজারের ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশই দীর্ঘদিনের পুরোনো ব্যবসায়ী। কারও কারও ব্যবসার সঙ্গে পারিবারিক ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। পূর্বপুরুষের ব্যবসার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এখনো অনেক ব্যবসায়ী নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বাজারটিতে টিকে আছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে দীর্ঘদিন নির্দিষ্ট কোনো বর্জ্য ফেলার স্থান ছিল না। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। ফলে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা, ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধে বাজারের পরিবেশ নষ্ট হতো।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের পরিবর্তনের পর বাজারের পুরোনো ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর কাছে তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ ও দুর্ভোগ সরেজমিনে দেখতে তিনি বাজার পরিদর্শন করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বাজারের পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রথমে নিজ অর্থায়নে  বাজারের উন্নয়নে কাজের পাশাোশি পানি নিঃস্কাশনে  ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ  নেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সদর উপজেলার সহোযোগিতায় ড্রেন নির্মান করার কাজ শুরু করেন। একই সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান তৈরি এবং সেখান থেকে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের জন্য ময়লার গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীদের পানির সংকট কমাতে সরকারি সহায়তায় একটি পাম্পের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে তারা জানান।

বাজারের পেছনের পরিবেশ উন্নত করতে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজ অর্থায়নে প্রায় শতাধিক গাছ লাগিয়েছেন বলেও ব্যবসায়ীরা জানান। পাশাপাশি বাজারের দোকানি ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো বাজারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, এসব উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের কিছু মৌলিক সমস্যা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে পরিকল্পিতভাবে বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তা সংস্কার, পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

ফতুল্লা বাজারের  ব্যবসায়ী ও বাজার সমিতির সাধারন সম্পাদক হাজী রহমতুল্লাহ জাানান, মুন্সিগঞ্জ, বক্তাবলী ও কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ, শাক-সবজি ও গবাদিপশু নিয়ে আসা ট্রলার থেকে ‘বার্থিং’ বা নোঙর করার খরচের নামে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হতো।রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর উদ্যোগে এ ধরনের অর্থ আদায় বন্ধ হয়েছে। এতে ট্রলারযোগে পণ্য নিয়ে আসা ব্যবসায়ী ও বাজারের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।

বাজারের ব্যবসায়ীদের মতে, শতবর্ষের পুরোনো এই বাজারকে টিকিয়ে রাখতে শুধু সাময়িক সংস্কার নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত উন্নয়ন। তাদের প্রত্যাশা, রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর সুনির্দিস্ট পরিকল্পনানুযায়ী বাজারের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে এটি ফতুল্লার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।