মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

|

আষাঢ় ৩১ ১৪৩১

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সোনারগাঁয়ে হৃদয় ভূঁইয়া হত্যা মামলায় ১৫ আসামী কারাগারে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৯:০৯, ২০ জুন ২০২৪

সোনারগাঁয়ে হৃদয় ভূঁইয়া হত্যা মামলায় ১৫ আসামী কারাগারে

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে উপ-নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পর দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হৃদয় ভূঁইয়া নামের এক তরুণ নিহত হোন। এ সময় ৮ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় ১৫ আসামীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্রে, ২০ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে হৃদয় ভূঁইয়া হত্যা মামলার ১৫ জন আসামী নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করলে আদালত আসামীদের জামিনের প্রার্থনা না মঞ্জুর করে আসামীদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো আসামীরা হলেন- ইঞ্জিনিয়ার সামসুল হক, হাফেজ সরকার, পারভেজ, বাবু সরকার, মাসুদ রানা, ছানা, মামুন, রিয়াজ, নোয়াব আলী, কাউসার, বাবুল, তরিকুল ইসলাম, শাহিনুর, মাওলানা ও জাহিদুল।

এদিকে ঘটনা সূত্রে জানাগেছে, গত ৯ মার্চ শনিবার সন্ধ্যায় পিরোজপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের দুধঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণার পর তালা প্রতীকের প্রার্থী কায়সার আহম্মেদ ওরফে রাজুর সমর্থকদের সঙ্গে মোরগ প্রতীকের প্রার্থী আবদুল আজিজ সরকারের সমর্থক ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে নিহত হোন হৃদয় ভূঁইয়া, তিনি দুধঘাটা গ্রামের আমির আলী ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি কায়সার আহম্মেদের সমর্থক ছিলেন।

আহত হোন আরো অর্ধশতাধিক। তাঁদের মধ্যে ওমর ফারুক ভূঁইয়াকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেশকজন পুলিশও আহত হোন।

হৃদয় নিহতের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামীরা ৮ সপ্তাহের জন্য হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিনে ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদেরকে কারাগারে পাঠান আদালত।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২০ মে পিরোজপুর ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. মুজিবুর রহমান মারা যান। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ৯ মার্চ শনিবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত দুধঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোট গণনায় আবদুল আজিজ সরকার মোরগ প্রতীকে ৯২৯ ভোট এবং কায়সার আহম্মেদ তালা প্রতীকে ৮১১ ভোট পান। কিন্তু কায়সার আহম্মেদ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে আবার ভোট গণনার দাবি জানান। পরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবারও ভোট গণনা করলে তালা প্রতীকের প্রার্থী আগের ভোটের সঙ্গে আরও এক ভোট বেশি পান। এ নিয়ে কায়সারের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তিনি প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে তৃতীয় দফায় ভোট গণনার দাবি জানান। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কায়সার ফলাফল মেনে নিয়ে ভোট গণনার কক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, কায়সারের সমর্থকেরা বিষয়টি জানতে পেরে লাঠিসোঁটা নিয়ে ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে কেন্দ্র ছাড়তে বাধা দেন। একপর্যায়ে পুলিশ ও দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ও আনসার সদস্যেরা ফাঁকা গুলি, রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। সংঘর্ষের সময় দুজন গুলিবিদ্ধ হলে তাঁদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ভাই জহিরুল ইসলামের দাবি করেছিলেন, সংঘর্ষের সময় মোরগ প্রতীকের প্রার্থী আবদুল আজিজের নির্দেশে তাঁর ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

তবে আবদুল আজিজ সরকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তালা প্রতীকের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা করে ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় গুলিতে একজন নিহত হন। তবে তাঁর পক্ষের কেউ গুলি করেননি বলে তিনি দাবি করেন।