ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার তিনগাঁও এলাকায় একটি পুকুরে কুমিরের দেখা মেলায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কুমিরের উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এরই মধ্যে প্রাণীটিকে ধরতে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল অভিযান চালালেও এখন পর্যন্ত সফলতা মেলেনি।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কুমিরটি প্রথমে যে পুকুরে দেখা দিয়েছিল, সেখান থেকে পরে অন্য একটি পুকুরে চলে গেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের অবস্থান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের এলাকায় সেটি অবস্থান করছে।
কুমিরের গতিবিধি নজরে রাখতে ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ ও ভেটেরিনারি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা রয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হয়েছে। ঢাকা থেকে বন্যপ্রাণী উদ্ধারে বিশেষ দলও এলাকায় এসে কুমিরটি উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিনভর কুমির উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়েও প্রাণীটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে রাতে দলটি জানতে পারে, কুমিরটি আগের পুকুর থেকে সরে অন্য একটি স্থানে চলে গেছে। এ অবস্থায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নতুন অবস্থান শনাক্ত করে আবারও উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিরটিকে ‘মহাবিপন্ন মিঠাপানির কুমির’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রাণীটিকে কোনো ধরনের আঘাত বা হত্যা না করে নিরাপদে উদ্ধারে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আব্দুল্লাহ আস সাদিক জানান, রোববার পুরো দিন কুমিরটি উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হলেও সেটিকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার পর তারা জানতে পারেন, কুমিরটি স্থান পরিবর্তন করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের অন্য একটি জায়গায় চলে গেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে বন্যপ্রাণীর আচরণ সবসময় অনুমান করা যায় না। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে স্থানীয়দের কুমিরটির কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকার বাসিন্দাদের পুকুরে না নামতে এবং পুকুরের পাড়ে অযথা অবস্থান না করতে সতর্ক করা হয়েছে। কুমিরের দেখা মিললে সেটিকে কাছে গিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে ধরার, তাড়ানোর কিংবা আঘাত করার চেষ্টা না করতেও বলা হয়েছে।
বিশেষ করে শিশু ও গবাদিপশুকে পুকুরের আশপাশে যেতে না দেওয়া এবং কুমির দেখতে গিয়ে সেখানে ভিড় না করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
কুমিরটির অবস্থান বা গতিবিধি সম্পর্কে কেউ কোনো তথ্য পেলে বন্দর উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল আবেদীন অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল কুমিরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

