শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

আশ্বিন ৩ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

স্বচ্ছ রাজনীতির ধারায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে রাজীব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২০:৩০, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বচ্ছ রাজনীতির ধারায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে রাজীব

মাসুকুল ইসলাম রাজীব

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে ঘিরে দলীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে। 

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা এবং দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্যের কারণে নেতাকর্মীদের একটি অংশের কাছে তিনি আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন। দলের ভেতরে যেমন তার সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা রয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বাইরেও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

ছাত্র রাজনীতি দিয়ে উঠে আসা রাজীব বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবনে তিনি সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন এবং পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

দলীয় রাজনীতিতে রাজীবের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে সামনে এসেছে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি তার অবস্থান। সর্বশেষ জেলা বিএনপির কাউন্সিলে দলের প্রতি তার আনুগত্য ও দলের ঐক্যের জন্য ত্যাগ দুটি বিষয়ই বর্তমান দলীয় প্রধান তারেক রহমানকে আকর্ষিত করে। এ নিয়ে তিনি বক্তব্যও রাখেন রাজীবের নাম উল্লেখ করে।

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান রাজীব। নির্বাচনী প্রচারণা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় উপস্থিতিও বিভিন্ন সময় সংবাদে এসেছে। 

দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নিরলস কাজ করার বিষয়টি রাজীবের রাজনৈতিক অবস্থানের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী তিনি ১ লাখ ৫৪ হাজার ১০৩ ভোট পান।

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সক্রিয়তার কারণে রাজীবের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে তার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির একটি বড় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এ ধরনের কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ দেখা গেছে।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও নগর উন্নয়ন নিয়েও কথা বলতে দেখা যাচ্ছে রাজীবকে। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সংস্থাটির চেয়ারম্যান পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের পরিকল্পিত নগরায়ন, নাগরিক সুবিধা এবং জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে। জুলাই মাসে তিনি নারায়ণগঞ্জের মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে জনস্বার্থের বিষয়গুলো চিহ্নিত করে তা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।

এদিকে গত ৫ আগস্টের পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা আলোচনা ও অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে রাজীবের বিরুদ্ধে এমন কোন অভিযোগ তুলতে পারেনি বিরোধীরাও।

রাজীবের ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের দাবি, ব্যক্তিগত পদ-পদবির চেয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। মনোনয়ন নিয়ে কোন অস্থিরতা না করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করার ঘটনাকে তারা এর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করেন, বর্তমান সময়ে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকা নেতাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।

সব মিলিয়ে ছাত্ররাজনীতি থেকে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব এবং বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রাজীবের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পথচলায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। দলীয় রাজনীতিতে তার দীর্ঘ সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং নির্বাচনী সময়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভূমিকা তাকে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে আলোচিত মুখ হিসেবে ধরে রেখেছে। ভবিষ্যতে দলীয় রাজনীতি ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব দুই ক্ষেত্রেই তার কর্মকাণ্ডের ওপর নজর থাকবে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।