শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

আশ্বিন ৩ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

প্রশাসক নুরুন্নবী ভূঁইয়াকে ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৯:২৫, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রশাসক নুরুন্নবী ভূঁইয়াকে ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নুরুন্নবী ভূঁইয়াকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। 

দীর্ঘদিন ধরে ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ না থাকায় ইউনিয়নবাসীর মধ্যে নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের দাবি জোরালো হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন নিয়ে স্থানীয়দের বিভিন্ন অসন্তোষের কথাও সামনে আসছে।

জানা যায়, নুরুন্নবী ভূইয়া বিএনপির রাজনীতিতে রাজপথে কখনোই সক্রিয় ছিলেন না। বিগত আওয়ামীলীগের সরকারের সময় ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীর মহলে ছিল তার চলাচল। তাদের সাথে নানা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে কাছের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। নিজেদের ভোটে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রত্যাশার কথা জানানোর সুযোগ পান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন রূপগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দারা। ফলে বর্তমানে তারা দ্রুত ভোটের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ চান।

গত ১৬ জুলাই রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পান নুরুন্নবী ভূঁইয়া। এরপর থেকে তিনি প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জনপ্রতিনিধি না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ মানুষের সরাসরি রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ভোট দিতে না পারায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশাও তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, প্রশাসকের মাধ্যমে পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম চললেও ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিকল্প তৈরি হয় না।

এদিকে প্রশাসক নুরুন্নবী ভূঁইয়াকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ বাড়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের নির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইউনিয়ন পরিষদকে ঘিরে সাধারণ মানুষের যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ভোটের বাইরে থাকা ইউনিয়নবাসী দ্রুত নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাবেন এমন প্রত্যাশাও রয়েছে তাদের মধ্যে।

প্রশাসক দিয়ে পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের মতামত ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে। তাই প্রশাসক কেন্দ্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠার দিকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।