কলেজরোড এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া ও কলেজরোড এলাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত সাতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগষ্ট) দুপুরে সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এঘটনায় আহতরা হলেন- তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম, অর্থ সম্পাদক জুবায়েদ, মনির, ইসমাইল, ছাত্রদল নেতা তুহিন আহমেদসহ দুইজন।
মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত জানান, আমি তাদের সাথে কথা বলতে এসেছি। ছাত্রদলের অনিক তার সাথে আমার ভাল সম্পর্ক। কোনদিন কথা কাটাকাটিও হয়নি। সে এসে আমার এক জনশক্তির ওপর হামলা করেছে। আমরা মনে করি ছাত্রদল সারা দেশে হল দখলের পাঁয়তারা করছে। কারণ তারা শিবিরের কারণে কলেজে চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি করতে পারে না। একারণে তারা শিবিরকে হল ছাড়া করতে চেষ্টা করছে। কিন্তু তোলারাম কলেজ ছাত্রশিবির অন্য কলেজের মত না। আমাদের ওপর হামলা করলে আমরা চলে যাবো এটার কোন কারণ নেই। আমাদের তিনজন আহত হয়েছে, তারা হাসপাতালে ভর্তি৷ তারা কলেজের সভাপতি, সেক্রেটারি ও অর্থ সম্পাদক। জুলাইয়ের কর্মসূচিতে তারা ছিল, তারা বক্তব্যও দিয়েছে। সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে তারা হামলা করেছে। আমরা আহতদের খবর নিতে এখানে এসেছিলাম।
এ বিষয়ে তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া জানান, ওরা পরিকল্পিত ভাবে হামলা করেছে। আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অনুষ্ঠান ছিল। গণঅভ্যুত্থান তো সবারই। সবাই এখানে অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু তারা পরিকল্পনা করে এসেছে এখানে ঝামেলা করবে।
তিনি আরও বলেন, তারা শহীদ মিনারে লোকজন জড়ো করে রেখেছে। আমরা মাত্র ২০/৩০জন ছিলাম। ওদের মনে হয়েছে আমরা ওদের মারবো। আমরা কেন মারবো, আমাদের সরকার। এটা তো আমাদের বদনাম। আমাদের এমন ইন্টেনশন ছিল না। তারা যে এভাবে হামলা করবে আমরা কল্পনাও করিনি। তারা যেহেতু হামলা শুরু করেছে ছাত্রদল এটা শেষ করবে।
এদিকে হামলার পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মোঃ হাসানুজ্জামান জানান, কলেজের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ খবর পেয়ে এখানে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দুই পক্ষকে শান্ত করে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। যতক্ষণ দরকার পুলিশ এখানে থাকবে। এ ঘটনায় চার পাঁচজন আহত হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

