বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

|

ফাল্গুন ১২ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

বন্দরের অর্ধশত শ্রমিক ৮ মাস ধরে ভারতের কারাগারে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১২:১৬, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বন্দরের অর্ধশত শ্রমিক ৮ মাস ধরে ভারতের কারাগারে

প্রতীকী ছবি

ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন রূপ নিয়েছে দুঃস্বপ্নে। উচ্চ বেতনের প্রলোভনে পড়ে দালালের মাধ্যমে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এখন ভারতের কারাগারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার অন্তত অর্ধশত শ্রমিক। এদের মধ্যে বেশিরভাগই গার্মেন্ট কর্মী। নিখোঁজের দীর্ঘ ৮ মাস পর কারও কারও সন্ধান মিললেও, বিদেশের মাটিতে কারাবন্দি থাকার খবরে পরিবারগুলোতে বিরাজ করছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে বন্দরসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার দক্ষ পোশাক শ্রমিক এবং বেকার লোকদের টার্গেট করে একটি অসাধু পাচারকারী চক্র। মাসে মোটা অংকের বেতন ও উন্নত জীবনযাত্রার প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে তাদের অবৈধ পথে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় কোনো খবর না পেয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন স্বজনরা।

বন্দরের পদুঘর, কুশিয়ারা, তিনগাঁসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কারও স্বামী, কারও সন্তান আবার কারও বাবা নিখোঁজ। বন্দরের পদুঘর বাড়িখালি গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে তিন সন্তানের জনক নূরনবী, কুশিয়ারা গ্রামের আজিজুল হাকিমের ছেলে দুই সন্তানের জনক শামীম ও আবদুল কুদ্দুসের ছেলে দিদার হোসেনসহ অর্ধশত শ্রমিক পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে কাজের উদ্দেশ্যে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। ভারতের চেন্নাইয়ের কারাগারে বন্দি নূরনবী, দিদার ও শামীম দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানাতে পেরেছেন ভারতে তাদের জেল জীবনের দুঃখ-দুর্দশার কথা।

নিখোঁজ নূরনবীর স্ত্রী বিলকিস বেগম সাংবাদিক দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, তার স্বামীকে ভালো বেতনের প্রলোভন দিয়ে ভারতে নিয়ে যায় দালালরা। তিনি ৭ মাস ধরে চেন্নাই কারাগারে আটক আছেন বলে জানতে পেরেছেন। তবে কি কারণে আটক রাখা হয়েছে তারা এর কিছুই জানেন না। স্বামী ছিলেন একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। শাশুড়ি এবং দুই সন্তান নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। তাই স্বামীকে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানান বিলকিস। নিখোঁজ শামীমের স্ত্রী নিপা জানান, কাজের সন্ধানে দালালের মাধ্যমে ভারত গিয়ে তার স্বামী এক বছর ধরে একটি কারাগারে বন্দি আছেন। তিনি সেখানে অনেক কষ্টে আছেন। তার ওপর অনেক অত্যাচার চলছে। তিন সন্তান নিয়ে তারও চলতে অনেক কষ্ট হচ্ছে বলে জানান। নতুন সরকারের কাছে স্বামীকে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানান নিপা। দিদার হোসেনের স্ত্রী খাদিজা জানান, ওরা বলেছিল ভালো কাজ দেবে। এখন শুনছি পুলিশে ধরছে, জেলে আছে। আমরা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি, আমাদের দেখার কেউ নেই। আমরা শুধু তাকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত চাই। পাচারকারী চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে এই শ্রমিকরা বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আইনি জটিলতা এবং পাচারকারী চক্রের আত্মগোপনের কারণে তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এখনো অনিশ্চিত। এদিকে প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে পরিবারগুলো। এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি গোলাম মোক্তার আশরাফউদ্দিন জানান, বিষয়টি জানা নেই। এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগও করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।