বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

|

আশ্বিন ১৫ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

পূর্বাচল থেকে ভোলা, যাত্রীদের ভরসা ‘কার্নিভাল ক্রুজ’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১:৪১, ১ অক্টোবর ২০২৬

পূর্বাচল থেকে ভোলা, যাত্রীদের ভরসা ‘কার্নিভাল ক্রুজ’

ফাইল ছবি

ঢাকা-ভোলা রুটে যাতায়াত সহজ করে দিয়েছে বিশেষ ফেরি ‘কার্নিভাল ক্রুজ’। পূর্বাচলের শিমুলিয়া ঘাট থেকে সরাসরি ভোলার ইলিশা পর্যন্ত মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যাচ্ছে গন্তব্যে। সড়কপথের যানজট ও তেল খরচ বাঁচিয়ে আরামদায়ক এই নৌপথ এখন যাত্রীদের নজর কাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৯ মার্চ থেকে এই ফেরি সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়। এ উদ্যোগের ফলে সদরঘাটের ওপর চাপ কমে গেছে। ৩০০ ফিট সড়কের সংযোগস্থলে ঘাটটির অবস্থান হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হয়েছে।

সরেজমিনে শিমুলিয়া ঘাটে দেখা যায়, ঘাটে অপেক্ষমাণ একের পর এক গাড়ি। পাশে যাত্রীদের ব্যস্ততা। কেউ টিকিট নিয়ে ফেরিতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউ আবার সঙ্গে থাকা মালামাল গুছিয়ে নিচ্ছেন। কিছুক্ষণ পরই হুইসেল বাজিয়ে শিমুলিয়া ঘাট ছাড়ছে ‘কার্নিভাল ক্রুজ’। গন্তব্য দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা।

‘যাব বাড়ি, সাথে নিয়ে যাব গাড়ি’ স্লোগান নিয়ে চালিত এই ফেরিতে ২৫-৪০টি প্রাইভেটকার বা ১২-১৫টি বড় ট্রাক একসঙ্গে বহন করা সম্ভব। আরামদায়ক কেবিন ও চেয়ার সিট, সাধারণ ডেক ছাড়াও এতে এসি বিজনেস ক্লাস চেয়ার এবং বিলাসবহুল ভিআইপি ও ফ্যামিলি কেবিনের ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা থেকে ভোলা যাতায়াতে এই ক্রুজটি মাত্র ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট থেকে ৫ ঘণ্টা সময়ের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছে যায়।

কার্নিভাল ক্রুজ প্রতিদিন সকাল ৮টায় শিমুলিয়া ঘাট থেকে ভোলার ইলিশা ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। যাত্রীদের জন্য ডেকে ভাড়া জনপ্রতি ৩০০ টাকা। এসি ৫০০ টাকা, ফ্যামিলি কেবিন দুই হাজার টাকা, এসি ও নন এসি। ভিআইপি কেবিন তিন হাজার ৫০০ টাকা।

প্রতিদিন বিকেল ৩টায় ভোলার ইলিশা ঘাটে পৌঁছে বিশেষ এই ফেরি। ওখান থেকে সন্ধ্যা ৭টায় আবার ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। ভোর ৪টায় ফের শিমুলিয়া ঘাটে এসে পৌঁছে।

সপ্তাহের অন্যান্য দিন মোটামুটি যাত্রী উপস্থিতি থাকলেও শুক্র ও শনি ছুটির দিনগুলোতে যাত্রীদের ভিড় থাকে অনেক। কার্নিভাল ক্রুজের যাত্রীদের উপজেলার শিমুলিয়া ফেরিঘাটে যাতায়াতের সুবিধার জন্য এমকে শিপিং ট্রান্সপোর্টের পক্ষ থেকে একটি শাটল বাস নিয়োজিত রয়েছে। যারা ভোলার ইলিশা ঘাট থেকে ঢাকায় আসেন, তাদেরকে শিমুলিয়া ফেরিঘাট থেকে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডে নামিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় কার্নিভাল ক্রুজের যাত্রীদের কুড়িল বিশ্বরোড থেকে শিমুলিয়া ফেরিঘাটে নিয়ে আসা হয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাচলের শিমুলিয়ার টুরিস্ট ঘাট থেকে ইলিশার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ফেরিতে ১০ চাকার গাড়িপ্রতি ২৫ হাজার, ৮-১১ টন ওজনের বড় ট্রাকপ্রতি ১৬ হাজার, ৫-৮ টনের নরমাল ট্রাকপ্রতি ১৪ হাজার ৬০০, ৩-৫ টনের ট্রাকপ্রতি ১২ হাজার, মাইক্রোবাস ৯ হাজার, এক টন ওজনের মাইক্রোবাস সাত হাজার, মোটরসাইকেল এক হাজার টাকায় পারাপার করা হচ্ছে। এই নৌপথ ঘিরে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। আবার সেবার মান ও বাস্তব সুবিধা নিয়ে বাড়ছে যাত্রীদের প্রত্যাশাও।

ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রী শামিম হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সড়কপথের দীর্ঘ যাত্রার তুলনায় নদীপথে চলাচলে অন্যরকম মজার ব্যাপার রয়েছে। বিশেষ করে যেসব যাত্রীকে নিজেদের যানবাহন নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যেতে হয়, তাদের কাছে ফেরিতে গাড়ি পারাপারের সুবিধাটি গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য এই রুটে যাত্রাপথে কার্নিভাল ক্রুজকে বেছে নিয়েছি।’

শামীমা বেগম নামের এক যাত্রী বলেন, ‘পেশাগত কারণে আমরা গাজীপুরে বসবাস করি। প্রায়ই গ্রামের বাড়িতে যেতে হয়। পূর্বাচলে ফেরিঘাট করায় আমাদের মতো যাত্রীদের অনেক উপকার হয়েছে। যানজট ঠেলে এখন আর সদর ঘাটে যেতে হয় না।’

কার্নিভাল ক্রুজে ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার নিয়ে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী আজিম সরকার। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘গ্রামের বাড়ি ভোলা যাচ্ছি। সঙ্গে নিজের গাড়িটাও নিয়ে যাচ্ছি। সড়কপথের যানজটের ঝামেলা এড়িয়ে আরামদায়ক যাত্রা।’

তিনি বলেন, ‘ফেরিতে যে টাকা ভাড়া দিচ্ছি, সড়কপথে এর চেয়ে বেশি টাকার তেল খরচই হতো। পূর্বাচলের এ ঘাট থেকে ফেরি চলাচল আমাদের যাত্রাকে আরও সহজ করে দিয়েছে।’

কাভার্ডভ্যানে করে পণ্য নিয়ে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী শাহীন প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘কার্নিভাল ক্রুজে যাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের যানবাহনও পারাপার করা হচ্ছে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে পণ্য ও ব্যক্তিগত পরিবহনের যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঝামেলাবিহীন এই নৌপথ আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করে দিয়েছে।’

পণ্যবাহী ট্রাকচালক বুলবুল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘পূর্বাচলের শিমুলিয়া ঘাট থেকে ফেরি চালু হওয়ায় পণ্য পরিবহনের খুবই সুবিধা হয়েছে। সড়কপথে তেলের ব্যয় থেকে ফেরিতে চলাচল করায় অপেক্ষাকৃত কম খরচ হচ্ছে।’

কথা হয় কার্নিভাল ক্রুজের চালক মহসিন ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন সকাল ৮টায় শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাই। বিকেল ৩টা নাগাদ ভোলায় পৌঁছাতে পারি। তবে নদীতে স্রোতের তারতম্যের কারণে কখনো কখনো সময় একটু এদিক-সেদিক হয়ে থাকে।’

এম কে শিপিং ট্রান্সপোর্টের জিএম মীর আনোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের কার্নিভাল ক্রুজে যাত্রীরা সন্তুষ্টচিত্তে যাতায়াত করছেন। যাত্রীদের ঘাটে আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে আমরা কুড়িল বিশ্বরোড থেকে একটি শাটল বাস সার্ভিস চালু করেছি। এটা দিয়ে যাত্রীদের ফ্রিতে ঘাটে আনা-নেওয়া করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, যাত্রী পারাপারে আমাদের এখনো পুরোপুরি সন্তোষজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে আশা করছি ভালো হবে।

বিআইডব্লিউটিসি নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের শিমুলিয়া ও কাচপুর ঘাট থেকে ভোলার ইলিশা ঘাটে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে নিয়মিত ফেরি চলাচল করছে। যাত্রীরাও নিরাপদে যাতায়াত করছেন শুনেছি। তবে এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির বাণিজ্যিক বিভাগ বিস্তারিত বক্তব্য দিতে পারবে।’

পরে বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।