ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ বন্দর ২৪ নং ওয়ার্ডস্থ আমিরাবাদ এলাকায় যুবক তাওহীদ (২২) কে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ঘটনার নয় দিন পার হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে করে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, মামলার নামীয় আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা খারিজ করে নেওয়ার জন্য বাদিকে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
বন্দর থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহার অনুযায়ী, পূর্ব বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাওহীদকে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয় এবং লাশ গুমের উদ্দেশ্যে আমিরাবাদ কফিল উদ্দিনের বালুর মাঠসংলগ্ন ঝোপে ফেলে রাখা হয়। ৯ জানুয়ারি বিকেলে স্থানীয় শিশুরা ফুটবল খেলতে গিয়ে ঝোপের ভেতর থেকে তাওহীদের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের পিতা ও মামলার বাদী আল মামুন অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে প্রকাশ্যে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ৯ দিনেও পুলিশ কাউকে ধরতে পারেনি। উল্টো আসামিরা এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হামলার ও হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশের দৃশ্যমান কোনো অভিযান না থাকায় আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা বলেন, দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
এদিকে মামলার এজাহারে যাদের নাম রয়েছে, তাদের কেউ কেউ এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে এমন অভিযোগ ওঠায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরও গ্রেপ্তার না হওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী পুলিশের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন।
নিহত তাওহীদের পরিবার অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার, বাদী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।

