মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

|

ফাল্গুন ১৮ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে রোগীরা 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২০:১৩, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে রোগীরা 

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দীর্ঘদিনের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করা হয়। একই সময়ে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে দুই ঘণ্টার এই কর্মসূচি একযোগে পালিত হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আলী আকবর খান, মো. হযরত আলী, সুকান্ত দাস, মো. শামীম আল মামুন, প্রদীপ কুমার তরফদার, কামাল হোসেন এবং ফার্মাসিস্ট রিপন মিয়া, মো. নূরুল আলম, শিল্পী আক্তার, উম্মে কুলসুম, ডালিয়া আক্তার বৃষ্টি, আবু তালহা প্রমুখ।

সেবা নিতে আসা রোগীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. শামীম আল মামুন বলেন, আজকের এই কর্মবিরতি সারা দেশে একযোগে পালন করা হয়েছে। গত তিন দশক ধরে দাবি জানানো হলেও আমাদের সমমানের অন্যান্য ডিপ্লোমাধারীদের মতো তৃতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না। বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশে এই বৈষম্য চলতে পারে না। আমাদের পদমর্যাদা তৃতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করতেই হবে।

তিনি জানান, ধাপে ধাপে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি, ৩ ডিসেম্বর অর্ধদিবস এবং ৪ ডিসেম্বর থেকে পূর্ণ শাটডাউনের ঘোষণা রয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তাদের প্রতি ঐক্য ও সমর্থন জানিয়েছেন।

এর আগে ‘দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা দেশের রোগ নির্ণয়, ওষুধ ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বাস্থ্যসেবা একটি সমন্বিত কাজ, যেখানে চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি তারা অবিচ্ছেদ্য অংশ। করোনা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো মহামারিতে তারা সামনে থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী (১৯৯৪), ডিপ্লোমা নার্স (২০১১) ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা (২০১৮) ইতোমধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণীর (১০ম গ্রেড) কর্মকর্তা পদমর্যাদা পেলেও সমমানের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা এখনও এই সুবিধা পাননি। এ দাবির পক্ষে ০১/১০/২০২৪, ০৩/১২/২০২৪ এবং ১১/১২/২০২৪ তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হলেও এখনও পর্যন্ত তা বাস্তবায়নের নিশ্চিত অগ্রগতি হয়নি। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয় এবং সর্বশেষ ১৬ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফাইল পৌঁছালেও দাপ্তরিক বিলম্বে বিষয়টি অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

সারাদেশের সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবিও স্মারকলিপিতে জানানো হয়।